সাবেক প্রধান মন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু যা জানা গেল

 


সম্প্রতি, ‘বেগম খালেদা জিয়া আজ ইন্তেকাল করেছেন ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন বাসভবন ফিরোজা থেকে সরাসরি লাইভ দেখুন লিংক কমেন্টে’ শীর্ষক ক্যাপশনে একটি তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।ফ্যাক্টচেক রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া মারা যাননি বরং, কোনো তথ্য প্রমাণ ছাড়াই আলোচিত দাবিটি প্রচার করা হয়েছে।এ বিষয়ে অনুসন্ধানে দেখা যায়, ফেসবুকের উক্ত দাবির কতিপয় পোস্টে একটি ব্লগপোস্টের লিংক সূত্র হিসেবে দেওয়া হয়েছে। রিউমর স্ক্যানারের বিশ্লেষণে ‘amardeesh247’ নামের ব্লগস্পটের বিনামূল্যের ডোমেইনের এই সাইটটি একটি ভূঁইফোড় সাইট বলে প্রতীয়মান হয়। অপরদিকে আমার দেশের আসল ডোমেইন নাম ভিন্ন। উক্ত ‘amardeesh247’ নামের এই ব্লগস্পটের সাইটে “ব্রেকিং নিউজ: সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকাল — আজ ২৬ মে ফিরোজায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ” শীর্ষক কথিত দাবির বিষয়ে একটি সংবাদ গত ২৬ মে ২০২৫ প্রকাশ করা হয়েছে। কথিত এই সংবাদে দাবি করা হয়, বাংলাদেশের রাজনীতির এক বিশাল অধ্যায় আজ শেষ হয়ে গেল। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ২৬ মে (সোমবার) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানের নিজ বাসভবন “ফিরোজা” -তে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৮০ বছর। বেগম জিয়া গত কয়েক বছর ধরে লিভার, কিডনি, হৃদরোগ এবং ডায়াবেটিসসহ একাধিক জটিল রোগে ভুগছিলেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে বিদেশে নেওয়ার আবেদন জানানো হলেও, তা অনুমোদিত হয়নি। শেষ সময়গুলোতে তাকে বাসভবনে বিশেষ মেডিকেল টিমের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছিল। আজ সকাল থেকেই শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে, সন্ধ্যায় তার চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।খালেদা জিয়ার মতো ব্যক্তি মারা গেলে সে বিষয়ে গণমাধ্যমগুলোতে ঢালাওভাবে সংবাদ প্রচার হওয়ার কথা। তবে, দেশের কোনো গণমাধ্যমে এ বিষয়ে সংবাদ প্রচার হতে দেখা যায়নি। এছাড়া, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো বিশ্বস্ত সূত্রেও উক্ত দাবির সত্যতা মেলেনি।খালেদা জিয়ার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ কিংবা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পেজ থেকেও এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায় নি। উল্লেখ্য, ফ্রি ডোমেইনের ব্লগসাইট ব্যবহার করে অপতথ্য ছড়ানোর এই পদ্ধতি গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকেই ব্যবহার হয়ে আসছে। সম্প্রতি রিউমর স্ক্যানারের ইনভেস্টিগেশন ইউনিট এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যাতে বেরিয়ে এসেছে এসব সাইটের পেছনে কারা আছেন, কারাই বা এসব সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন এবং কাদের এসব অপতথ্যের শিকার বানানো হচ্ছে। পড়ুন এখানে।সুতরাং, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া মারা গেছেন শীর্ষক তথ্যটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।

Countdown Timer
00:01

Comments

Popular posts from this blog

সব শিক্ষা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য জরুরি ঘোষণা!

NCP এর কেন্দ্রীয় নেতা কে গুলি

এমপিও শিক্ষকদের বেতনের জিও জারি, বাড়ি ভাড়া কত?