পাশাপাশি দুই ভবন ধসে নিহত অন্তত ২২
মরক্কোর সবচেয়ে পুরোনো শহরগুলোর একটি ফেজ-এ পাশাপাশি দুই ভবন ধসে পড়ে অন্তত ২২ জন নিহত ও ১৬ জন আহত হয়েছেন। দুই ভবনের একটিতে কেউ বসবাস করেন না অনেকদিন ধরেই, তবে অন্য ভবনটিতে চলছিল আকিকার অনুষ্ঠান। গতকাল রাতে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন ফেজ শহরের প্রসিকিউটর।
হতাহতের এই সংখ্যা আপাতত প্রাথমিক হিসাবে পাওয়া জানিয়ে প্রসিকিউটর বলেছেন, এ নিয়ে তদন্ত চলছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বিবৃতিতে জানিয়েছে, আকিকার অনুষ্ঠান যে ভবনে চলছিল, সেটিতে আটটি পরিবার বসবাস করত। পাশাপাশি দুই ভবনের দুটিই ছিল চার তলাবিশিষ্ট।
ভবনধসে স্ত্রী ও তিন সন্তানকে হারানো এক ব্যক্তি স্থানীয় মেদি১ টিভিতে বলেছেন, উদ্ধারকর্মীরা এখন পর্যন্ত শুধু একজনের মরদেহ উদ্ধার করতে পেরেছেন, এখনো বাকি মরদেহগুলোর অপেক্ষায় আছেন তিনি।
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সম্প্রচারসংস্থা এসএনআরটি নিউজ তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, শহরের পশ্চিম দিকে ঘনবসতিপূর্ণ আল-মুস্তাকবাল অঞ্চলে অবস্থিত ভবন দুটিতে কিছুদিন ধরেই ফাটল দেখা গিয়েছিল।
মরক্কোর জনসংখ্যার অধিকাংশ এবং অর্থনৈতিক অঞ্চল ও শিল্পাঞ্চলগুলোর বেশিরভাগই দেশটির উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত, যেখানে দেশটির বাকি অংশ মূলত কৃষি, মৎস্য ও পর্যটনশিল্পের ওপর নির্ভরশীল। ২০৩০ ফিফা বিশ্বকাপের আয়োজক দেশগুলোর একটি মরক্কো। বিশ্বকাপ উপলক্ষে দেশটির সরকার একদিকে বিভিন্ন অঞ্চলে আধুনিক স্টেডিয়াম ও উচ্চাকাঙ্খী অবকাঠামোগত প্রকল্প হাতে নিয়েছে, অন্য দিকে এই অঞ্চলে দারিদ্র, বসবাসের অবস্থা ও জনসেবার করুণ অবস্থা নিয়ে মানুষ ক্ষুব্ধ অনেকদিন ধরেই।
তারই জেরে গত অক্টোবরে তরুণদের নেতৃত্বে মরক্কোজুড়ে ভবন ও বসবাসের অবস্থা এবং জনসেবার মান নিয়ে অসন্তোষের কারণে যে শহরগুলোতে গণবিক্ষোভ হয়েছে, ফেজ তার একটি। মরক্কোর তৃতীয় সর্বোচ্চ জনবসতিপূর্ণ শহরটি আঠার শতকের সময়ে রাজধানী হিসেবে পরিচিত ছিল। বিশ্বকাপের একটি ভেন্যু এই শহর।
গত জানুয়ারিতে দেশটির গৃহায়নমন্ত্রী আদিব বেন ইব্রাহিম বলেছিলেন, দেশজুড়ে প্রায় ৩৮ হাজার ভবনকে চিহ্নিত করা হয়েছে যেগুলো ধসে পড়ার শঙ্কায় আছে।
বুধবারের এই দুর্ঘটনা মরক্কোতে হতাহতের হিসেবে গত ১৫ বছরে সবচেয়ে ভয়ংকর। এর আগে ২০১০ সালে দেশটির উত্তরে ঐতিহ্যবাহী শহর মেকনেসে একটি মিনার ধসে পড়ে ৪১ জন মারা গিয়েছিলেন।

Comments
Post a Comment