জাতীয় বেতন কমিশন নতুন বেতন কাঠামো ঠিক করেছেন
নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নে সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে ২৩ সদস্যের একটি বেতন কমিশন গঠন করে।জাতীয় বেতন কমিশন সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করে। এতে সর্বনিম্ন ধাপে বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ধাপে ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়।কমিশনপ্রধান জাকির আহমেদ খান প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় জানান, সুপারিশ বাস্তবায়নে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী ও ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য সরকারের মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর তা বাস্তবায়নের আগে কয়েকটি প্রক্রিয়া রয়েছে। এর অংশ হিসেবে গত ৮ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে প্রধান করে ৯ সদস্যের একটি পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন ২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি ২০২৫-এর প্রতিবেদন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সরকারের কাছে সুপারিশ জমা দেবে। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা। তবে ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠনের পর রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের কারণে নতুন সরকারের দিকনির্দেশনা ছাড়া পর্যালোচনা কমিটি এখনও কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি।
অর্থ বিভাগ সূত্র আরও জানায়, প্রাথমিকভাবে সরকারের পরিকল্পনা ছিল চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকেই আংশিকভাবে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা। এ লক্ষ্যে সংশোধিত বাজেটে বেতন-ভাতা খাতে অতিরিক্ত ২২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। কিন্তু বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাড়তি ব্যয়ের কারণে ওই বরাদ্দ অন্য খাতে ব্যবহার করা হচ্ছে।সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হতে পারে। তবে সেটিও একযোগে পুরোপুরি বাস্তবায়িত হওয়ার সম্ভাবনা কম। প্রথম ধাপে মূল বেতন বা বেসিক কার্যকর করা হতে পারে এবং পরবর্তী ধাপে অন্যান্য ভাতা ও সুবিধা যুক্ত করা হবে। অতীতের বেতন কমিশনগুলোর ক্ষেত্রেও এ ধরনের ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের নজির রয়েছে।

Comments
Post a Comment